ঝর্ণার পর্যটন শহর মিরসরাই
প্রথম পাতা » ফটো গ্যালারি » ঝর্ণার পর্যটন শহর মিরসরাই


বুধবার ● ১১ অক্টোবর ২০১৭

---অনলাইন ডেস্কঃ দেশের সেরা অনেকগুলো মনোমুগ্ধকর প্রবহমান ঝর্ণা নিয়ে নতুন করে গর্ববোধ করছে মিরসরাই। পাহাড়ের পাদদেশে এবং কানালে অবস্থিত সেসব ঝর্ণার কারণে মিরসরাইকে আবার নতুন করে চিনছে দেশবাসী। ধীরে ধীরে পাহাড় বেষ্টিত মিরসরাইয়ে লুকিয়ে থাকা ঝর্ণাগুলো দর্শনার্থীদের সামনে আসছে। পর্যটকদের কাছে উপাধি পাচ্ছে মিরসরাই এখন ঝর্ণার শহর হিসেবে। ঐতিহ্যবাহী মহামায়া লেক, বৈচিত্রময় মুহুরী প্রকল্প এলাকার জন্য দিনে দিনে বেড়েই চলছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন।

প্রতিদিনই খৈয়াছরা ঝর্ণার পথে দেখা মিলছে দলে দলে দর্শনার্থীদের। তরুণ-তরুণী, বন্ধু, বয়োজ্যেষ্ঠ, পরিবার-পরিজন আবার কেউ কেউ সহকর্মী, সহপাঠিদের নিয়ে ছুটছেন ঝর্ণার পথ ধরে। আবার মহামায়া লেকেও বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। বিশেষ করে মিরসরাইয়ের মতো মনোমুগ্ধকর ঝর্ণা দেশের কোথাও নেই। একটি দুটি নয়, বিভিন্ন স্তরের সুন্দরে বৈচিত্রময়তায় সমৃদ্ধ এসব ঝর্ণাগুলো। এসব ঝর্ণার মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, ছোটকমলদহ ঝর্ণা, বড় কমলদহ ঝর্ণা, বাওয়াছরা ও মহামায়াসহ আরো অনেক ছোটবড় ঝর্ণা। মিরসরাই থেকে বড়তাকিয়া, কমলদহ এলাকা এখন ঝর্ণার জন্য পরিচিত দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের কাছে।

প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ছুটে আসছেন এই মিরসরাই উপজেলার মনোরম ঝর্ণাগুলো দেখতে। উচ্চতায় দেশের সর্বোচ্চ ঝর্ণা খৈয়াছরার ঝর্ণাটি। শুধু ঝর্ণার একটি স্তরই নয়, সাত সাতটি স্তর রয়েছে। পথ ধরে যেতে গহীন বন, পাখ-পাখালির কলরব, বড় বড় পাথর বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, পাহাড়ি পথ, বন-বাদাড়, পাথুরে ছরা বেয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে চলা সব মিলিয়ে ভিন্ন মাত্রার সাহসী অভিযাত্রা বলা যায়। প্রতিটি ঝর্ণা দেখতে অন্তত চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটতে হয়। কিন্তু তাতে কি। দর্শনার্থীরা বিমুগ্ধ হয়ে সারাদিনই কাটিয়ে দিচ্ছেন। গত কয়েক বছর ধরেই এই ঝর্ণা দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে সময়ের সঙ্গে পালা বদল করে। দর্শনার্থীদের আগমনের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে অনেকটা ঝর্ণা ট্যুরিস্ট সিটি হয়ে উঠছে এই মিরসরাই। কিন্তু পাশাপাশি সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে গেছে এখানকার থাকা, খাবার এবং গণ-সৌচাগারের।

শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে আসা চট্টগ্রাম শিক্ষা বিভাগের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দর্শনার্থী জহির উদ্দিন চৌধুরী ও শিক্ষা অধিদফতর কর্মকর্তা মামুন কবির বলেন, আমরা লোকমুখে শুনে অবিভূত হয়ে এখানে এসেছি। কিন্তু এখানে এত পর্যটক আসা সত্ত্বেও বন বিভাগ বা স্থানীয় সরকারে কারো উদ্যোগই নেই কোনো হোটেল মোটেল বা সৌচাগারের ব্যবস্থা। এসব ব্যবস্থাপনা বাণিজ্যিকভাবেও হতে পারতো। কিন্তু সে ব্যবস্থাও নেই। মূল সড়ক থেকে ঝর্ণার পথে যাতায়াতের সড়কের বেহাল দশাতো রয়েছেই।

চট্টগ্রাম থেকে আসা অপর দর্শনার্থী বিটিভির সহকারী বার্তা প্রযোজক শামীমা মুনমুন সুমি বলেন, আমরা কয়েক নারী এসেছি। আবার অন্য দলেও অনেক নারী দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু নারীদের জন্য ন্যূনতম সৌজন্য ব্যবস্থাও নেই। যার জন্য এ জনপদের অভিভাবকদেরই দায়ী করতে হয়। দায়িত্বশীলদের এমন উদাসীন মনোভাবের কারণে তাদের সব অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পর্যটকরা।

এতকিছুর পরও ঝর্ণার ছল ছল শব্দ আর এখানকার পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দর্শনার্থীরা যেন আরো তৃষ্ণার্ত হয়ে ওঠেন মহামায়ার অপরুপ সৌন্দর্য্য দেখতে। কেউ কেউ ছুটে যেতে চান সমূদ্র উপকূলসহ অর্থনৈতিক জোন এলাকায়। এরপর আবার ঝর্ণা এলাকায় ঘুরতে গিয়ে প্রাকৃতিক বৈচিত্রতা দেখে সবাই মুগ্ধ হয়ে পুরো দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু দিন শেষে বেশ ক্লান্ত হওয়ার পর মিরসরাই সদর কিংবা বড়তাকিয়াসহ আশপাশের কোথাও আবাসিক হোটেল না থাকায় ঝর্ণাগুলো দেখতে আসা পর্যটকরা গভীর রাতে যাত্রা করে ভোরে আসেন। ফের রাতে স্বদলে তারা রওনা হচ্ছেন আপন গন্তব্যে।

একদিন ঝর্ণা দেখে দিন শেষে ক্লান্ত হয়েই বাকি থাকা মহামায়া, উপকূল অথবা মুহুরী প্রকল্প আর দেখতে পারছেন না কেউ। অথচ অনেকেই মহামায়ায় পুরো দিনভর দেখতে আগ্রহী। আবার মহামায়া এলাকায়ও হতে পারে আবাসিক ব্যবস্থা। সেখানে রাতে চাঁদের আলো খেলা, দিনের মনোরম সমৃদ্ধ প্রকৃতির এগার বর্গ কিলোমিটার লেক এলাকায় দিনভর কাটাতে চায় অনেকে। কিন্তু নেই ভালো মানের রুচি সম্মত খাবার ব্যবস্থা। নেই কোনো আবাসিক ব্যবস্থা। যার ফলে আগামীর পর্যটন সিটি এই মিরসরাই এখন থেকেই হারানোর হিসাবই গুনতে হচ্ছে দেশি-বিদেশি কারেন্সি। কারণ পর্যটকরা থাকার সুবিধা পেলেই এখানে তাদের নিয়ে আসা অর্থ ব্যয় করতেন। কিন্তু সঙ্গে নিয়ে আসা অর্থ ব্যয় করার সুযোগ না থাকাতে তারা বরং হতাশই হচ্ছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৩:৩৬:৫০ ● ৩০৭ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)



আরো পড়ুন...