শ্রেষ্ঠ করমর্দন আর চন্দনের ভালোবাসার গন্ধ
প্রথম পাতা » ফটো গ্যালারি » শ্রেষ্ঠ করমর্দন আর চন্দনের ভালোবাসার গন্ধ


বুধবার ● ২৮ মার্চ ২০১৮

---মোঃ আজম : চোখে মুখে অভিযোগের চিহ্ন, গলার স্বরটাও ছিল অভিযোগের, তোরা সব বড় লোক হইলি, টাকা ওয়ালা হইলি আর আমি আমার জায়গাতেই হড়ি রইলাম ।

বলছি চন্দন নামের এই জুতা সেলাইকারকের কথা। ছোটবেলা থেকেই চন্দনের সাথে আমাদের সখ্যতা ছিল, একই শহরে একই পাশা পাশি জায়গায় বাস করি বলে বন্ধুত্ব আর ভালোবাসায় চন্দনের সাথে আমাদের সম্পর্কটা গড়ে ওঠে নিবিড় ভাবে। চন্দনের বাবার অগাধ টাকা বা অর্থ আভিজাত্য না থাকায় অল্প বয়সেই চন্দন কে জুতা সেলাইয়ের (মুছি) কাজ বেচে নিতে হয়। কিন্ত চন্দন ক়খনো ভাবেনি সারা জীবন মানুষের পায়ের জুতা মুছে বা সেলাই করেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। কিন্ত ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ভাগ্যের চাকা এখনো ঘোরাতে পারেনি । রায়পুর পৌর শহরের মীরগঞ্জ সড়কের মাথায় পুরাতন শহীদ মিনারের কোনদিন উত্তর পাশে কোনদিন দক্ষিন পাশে আবার ক়খনো বা শহীদ মিনারের সামনে বসেই তার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের আয় দিয়ে দুই সন্তান, স্ত্রী আর নিজের সুখের ঠিকানা খুঁজে বেড়ায় চন্দন।

অনেক স্বপ্ন ছিল আর অন্য বন্ধু বান্দবদের মত করে একদিন নিজেও দূর আকাশের সিঁড়ি বেয়ে পাড়ি দিবে অজানার উদ্দেশ্যে, অজানাকে জানবে অচেনাকে চিনবে, ভালো পরবে ভালো খাবে সন্তানদের মুখে হাঁসি ফুটিয়ে নিজেও স্বাচ্চন্দে জীবন উপভোগ করবে চন্দন এমনটাই দুচোখ ভিজিয়ে আক্ষেপ এর সূরে জানালো। চন্দনের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে করমর্দন করতেই অভিমানী গলার স্বর….আমি মুছি, জুতা সেলাই করি আর তোরা বড় লোক আমার হাতের জুতার গন্ধ তোদের হাতে টাকার গন্ধ এই দুই হাত এক হয় কি করে রে… চন্দনের এই কথার উত্তর আমার জানা ছিল না, শুধু এক দৃষ্টে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা গুলো শুনলাম আর বললাম আমার হাতে টাকার গন্ধ আর নতুবা যা-ই হোকনা কেন, তোর সাথে এই করমর্দনটাই যেন আমার শ্রেষ্ঠ করমর্দন হয় ।

সর্বশেষে বলবো যেই শহীদ মিনারের সামনে বসে চন্দন জুতা সেলাই করে সেই শহীদ মিনারেই প্রতিদিন না হোক বছরে দুই একবার হলেও পুষ্পার্ঘ অর্পন হয়, দুই একবার হলেও শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় আমরা শহীদদের স্মরনে মিনারের দিকে ছুটে যাই কিন্তু চন্দনের মত মানুষদের হাতে কেন একটিবারের মত একটি ভালোবাসার ফুল একটি ভালোবাসার স্বপ্ন অথবা সেই আগের মত করে ভালোবাসার আড্ডায় মেতে উঠতে পারি না !

বাংলাদেশ সময়: ১১:২৩:৫৯ ● ৫৪৫ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)



আরো পড়ুন...