প্রসঙ্গ ব্যাবহারিক বাংলা || লেখক : মোস্তফা শাওন
প্রথম পাতা » আনন্দ বিনোদন » প্রসঙ্গ ব্যাবহারিক বাংলা || লেখক : মোস্তফা শাওন


রবিবার ● ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

---রায়পুর নিউজ প্রতিবেদক : দেশে ১৩ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তার মধ্যে ২৭ হাজার প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা; আমার দৃঢ় বিশ্বাস প্রথমত সরকারি চাকরিজীবীদের নোটিং, ফাইলিংসহ দাপ্তরিক কাজে; দ্বিতীয়ত মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী; তৃতীয়ত সংবাদকর্মী-লেখক-সাংবাদিকগণ; এবং চতুর্থত সর্বস্তরের পাঠকের কাজে লাগবে বইটি।

অ থেকে হ ধ্বনি পর্যন্ত প্রমিত শব্দাবলি; যে-কোনও অভিধানের ভুক্তিতে স্থান না পাওয়া শব্দ এ বইয়ে পাওয়া যাবে। ই/ঈ-কারের প্রায় ৮০টি নিয়ম ও অসংখ্য উদাহরণ, ণত্বষত্ববিধি, সমাস/প্রত্যয় নির্ণয়ের নিয়ম, পারিভাষিক শব্দ, ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি, সমাসবদ্ধপদের তালিকা, সর্বোপরি ৫০০টি বিষয়ের ব্যাখ্যায় ১৯১টি বইয়ের রেফারেন্স নেওয়া হয়েছে। ‘ব্যাবহারিক’ কেন শিরোনাম—১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের-এর ‘বাঙ্গলা ভাষা-প্রসঙ্গে’ গ্রন্থের পৃষ্ঠা ৭৩-এ লেখা হয়, “এ ছাড়া practical বা ব্যাবহারিক দিক একটা আছে।” আরও কিছু দৃষ্টান্ত—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘বাংলা শব্দতত্ত্ব’; রাজশেখর বসু রচিত ‘চলন্তিকা’; ‘বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান’; ‘শব্দসংকেত’, জামিল চৌধুরী; ‘বাংলা একাডেমি বাংলা-বানান অভিধান’; ‘সংসদ বানান অভিধান’; ‘সংসদ বাংলা অভিধান’; ‘সরল বাঙ্গালা অভিধান’; ‘খটকা অভিধান’; পবিত্র সরকার-এর ‘বানান-বিবেচনা’; ‘সরকারি কাজে ব্যাবহারিক বাংলা’-এ ব্যাবহারিক গৃহীত হয়েছে। ব্যাবহারিক শব্দ আরও গৃহীত হয়েছে—বাগর্থ, (পৃষ্ঠা ৯৭/১১৫) বিজনবিহারী ভট্টাচার্য; ‘বাংলা বানান’, মণীন্দ্রকুমার ঘোষ; সুভাষ ভট্টাচার্য-এর ‘আধুনিক বাংলা প্রয়োগ অভিধান’; অমিতাভ মুখোপাধ্যায়-এর বানানের হাতবই; হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বঙ্গীয় শব্দকোষ; জ্যোতিভূষণ চাকী-এর শুদ্ধ লেখো ভালো লেখো; বাংলা একাডেমী বাঙলা উচ্চারণ অভিধান; জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস-এর বাঙ্গালা ভাষার অভিধান; সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়; পবিত্র সরকার-এর কী ভাবে বাংলা লিখবে। বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক অভিধান-এ ব্যবহারিক/ব্যাবহারিক ভুক্তিতে গৃহীত হয়েছে। পরিমল গোস্বামী-এর ‘রবীন্দ্রনাথ, বাঙ্গালী, বাংলাভাষা ও নান্দনিক’ গ্রন্থে ‘ব্যাবহারিক’ গৃহীত হয়েছে। দুটি আভিধানিক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হলো—‘বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান’ ও কাজী আবদুল ওদুদ-এর ‘ব্যবহারিক শব্দকোষ’। উভয় অভিধানেই ‘ব্যবহারিক/ব্যাবহারিক’ শব্দকে বিকল্প শব্দ হিসাবে ভুক্তিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। ‘বাংলা বানান প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ’ গ্রন্থে এস. এম. হারুন-উর-রশিদ বলেন, “ব্যবহারিক ও ব্যাবহারিক (উভয় বানানই শুদ্ধ, তবে প্রথমটি প্রচলিত)।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে লেখা দেবপ্রসাদ ঘোষ-এর চিঠির একাংশে বলা হয়েছে, “আপনাকে যেমন বাণান ব্যাপারে ছোটোখাটো ভুলের জন্য অনুযোগ করেছি, বন্ধুবর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কেও তেমনই করেছি। তাঁর লেখায় একদিন দেখি ‘ব্যবহারিক’ আর-একদিন ‘অধীতব্য’ আর-একদিন দেখি ‘বিশেষতো’। কোনওটিই ঠিক নয়। প্রথমটি হবে ব্যাবহারিক (ব্যবহার+ষ্ণিক/ইক), দ্বিতীয়টি হবে অধ্যেতব্য, (অধি+ই+তব্য), এবং শেষেরটি হবে বিশেষত।” সুভাষ ভট্টাচার্য ‘আধুনিক বাংলা প্রয়োগ অভিধান’-এ বলেন, “ব্যাবসায়িক ও ব্যাবহারিক অধিকতর যুক্তিযুক্ত; কিন্তু বাংলায় অযৌক্তিকভাবে ব্যবসায়িক ও ব্যবহারিক চালু হয়েছে।” ‘সংসদ বাংলা অভিধান’-এ বলা হয়, “ব্যবহারিক-এর সংগততর বানান ব্যাবহারিক।” ব্যাকরণের নিয়মে ‘ষ্ণিক/ইক’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দের আদিস্বরের বৃদ্ধি ঘটে। ‘বাংলা ভাষায় প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ’ গ্রন্থে বলা হয়, “ইক প্রত্যয়ান্ত শব্দে দ্বিতীয় স্বরের বৃদ্ধি হয় না আদিস্বরের বৃদ্ধি হয়।” আরও বলা হয়, ইক প্রত্যয়ান্ত শব্দে দুটি পদের মিলনে কোনও কোনও ক্ষেত্রে দুটি পদেরই স্বর-বৃদ্ধি ঘটে। সুভাষ ভট্টাচার্য ‘আধুনিক বাংলা প্রয়োগ অভিধান’-এ একই কথা বলেন। ব্যাবহারিক (ব্যাবহার+ইক) সেই নিয়মেই গঠিত হয়েছে। এ ছাড়াও এ গ্রন্থে ব্যাবহারিক বাংলার ৫০০টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।লেখক পরিচিতি
মো. মোস্তফা (শাওন), জন্ম : ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২০ আগস্ট লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড (শায়েস্তানগরের) পূর্বলাচ গ্রামে। দুরন্ত শৈশব কেটেছে ডাকাতিয়া নদীর তীরে সয়াবিন-পান-সুপারি-নারকেল ঘেরা রায়পুরে। পারিবারিক জীবন : সহধর্মিণী তাছলিমা আক্তার ও সন্তান আহমেদ মোস্তফা অনীক। শিক্ষাগত যোগ্যতা : এম.এ. ও বি.এ. (অনার্স), বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এইচ.এস.সি. সরকারি তিতুমীর কলেজ, এস.এস.সি. রায়পুর মার্চ্চেন্টস একাডেমী, শায়েস্তানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক সমাপনী। বর্তমান কর্মস্থল : অস্যাইনমেন্ট অফিসার, বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে ২৭তম বি.সি.এস.-এ সরকারি চাকরিতে প্রবেশ। দীর্ঘ পাঁচ বছর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষে আইনের প্রমিতীকরণে ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ‘দাপ্তরিক কাজে প্রমিত বাংলার ব্যবহার’ সেশন নিতে গিয়ে বাংলা বানানবিষয়ক যে অভিজ্ঞতার সঞ্চার হয়েছে তার একত্রীকরণ ‘প্রসঙ্গ ব্যাবহারিক বাংলা’। এ বইয়ের অবয়ব গঠনে দীর্ঘ পাঁচ বছরে অসংখ্য আইনের শব্দাবলি ও ১৯১টি বইয়ের ঋণ গ্রহণ করেছেন। সম্পৃক্ত ছিলেন : ‘সচিবালয় নির্দেশমালা-২০১৪’, ‘সরকারি কাজে ব্যবহারিক বাংলা’-২০১৫, ‘প্রশাসনিক পরিভাষা-২০১৫’, ‘সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম-২০১৭’, ‘সরকারি কাজে ব্যাবহারিক বাংলা’ ২য় সংস্করণ-২০১৭, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৬ ও ২০১৭’, ও ‘পদবির পরিভাষা-২০১৮’। প্রকাশের অপেক্ষায় : ‘একবিন্দু জল’ (কাব্য); ‘বাংলা ভাষা ব্যবহারের প্রশাসনিক নির্দেশনা ও বাংলা বানানের নিয়ম’। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক গ্রুপ ‘বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ’-এর ফোকাল পয়েন্ট/জ্যোতিবিন্দু ও সেবাদাতা কর্মকর্তা, প্রমিত বাংলা বানানবিষয়ক যে-কোনও পোস্টের সমাধান দিয়ে থাকেন। এ ছাড়াও ফেসবুক গ্রুপ ‘রায়পুর স্টারস’-এর ক্রিয়েটর ও মডারেটর। প্রিয়বিষয় : মুক্তিযুদ্ধ, কবিতা পড়া ও লেখা, বাংলা বানান, বাংলাদেশের গ্রাম-মানুষ-মানবতা-প্রকৃতি।---

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৪:১৮ ● ১০২৭ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)



আরো পড়ুন...