চাঁদপুরে আওয়ামী লীগে নির্বাচনী পালে হাওয়া
প্রথম পাতা » ফটো গ্যালারি » চাঁদপুরে আওয়ামী লীগে নির্বাচনী পালে হাওয়া


সোমবার ● ২৯ জানুয়ারী ২০১৮

---নিউজ ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-২ (মতলব দক্ষিণ-উত্তর) আসনেও লাগছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনের সময় যতই কাছে আসছে ততই নির্বাচনী উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এ আসনে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনায় এ আসনের বর্তমান এমপি ও সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমের কারণে।

তিনি নিয়মিত নিজ এলাকায় চষে বেড়ালেও প্রতিপক্ষ বিএনপিতে নেই কোনো নির্বাচনী আমেজ। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষে বেশ কয়েকজন নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য প্রাক প্রস্তুতি হিসেবে নানা ধর্মীয় ও জাতীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন।

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) সংসদীয় আসনে নির্বাচন কমিশনের হাল নাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার হচ্ছে ৩ লাখ ৮২ হাজর ৮৩৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫১৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩২৮ জন।

চাঁদপুরের রাজনীতির মাঠে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে জেলায় ৫টি আসনেই সরকারদলীয় তথা আওয়ামী লীগ তাদের করে নেয়। এমন অবস্থা চাঁদপুর-২ আসনে বর্তমান এমপি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমই আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলের প্রার্থী অনেকটাই নিশ্চিত। তবে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মো. রফিকুল ইসলাম এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড. নূরুল আমিন রুহুলের নাম শোনা যাচ্ছে, মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে কাজ করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাড. নূরুল আমিন রুহুল এলাকায় প্রায়ই আসেন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তবে তার এই আসা-যাওয়াটাই নির্বাচনী উত্তাপ অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে এ আসনে। তবে অ্যাড. রুহুল প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণা চালাতে কিছুটা কৌশলী অবস্থানে রয়েছেন। প্রভাবশালী একটি মহলের রোষানলে আছেন তিনি বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা দাবি করে আসছেন।

এদিকে এ আসনের বর্তমান এমপি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম কোনো কারণে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে না পারলে তিনি তার ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দীপুর জন্য লবিং করবেন বলে জানা গেছে। তাই দীর্ঘদিন দীপু এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন।

অপরদিকে চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপিতে এখনো উত্তাপ না থাকলেও প্রস্তুতি চলছে ঢিলেঢালাভাবে। দলটির সাংগঠনিক অবস্থা অনেকটাই দুর্বল। বিশেষ করে সাবেক এমপি নুরুল হুদার মৃত্যুতে বিএনপি অনেকটাই অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ে এ আসনে। তবে সরকারি দলের নানা বাধা পেরিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে জানান দিচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতা ড. জালাল আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালি, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মোস্তফা খান সফরী, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের তেজগাঁও এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ শুক্কুর পাটওয়ারী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার ওবায়েদুর রহমান টিপু ও সাবেক সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী মরহুম নূরুল হুদার ছেলে তানভীর হুদার নাম শোনা যাচ্ছে। এসব প্রার্থীর মধ্যে অনেকেই মাঝে মধ্যে এলাকায় এলেও হামলা ও মামলার ভয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছেন না বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে আসছেন। যার কারণে বিএনপির নির্বাচনী সাংগঠনিক তৎপরতা তেমন নজরে আসছে না এই চাঁদপুর-২ তথা মতলব দক্ষিণ ও উত্তর আসনে।

চাঁদপুর-২ আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী, জেলা জাপার আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান খান ও জাপা নেতা এমরান হোসেনের নাম শোনা গেলেও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কোনো নেতার নাম এখনো শোনা যাচ্ছে না।

সম্ভাব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় দলের অবস্থান প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছিরউদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচনেও জেলার ৫টি আসনের সবক’টিই আওয়ামী লীগ জয়লাভ করতে সক্ষম হবে। কারণ শেখ হাসিনার শাসনামলে চাঁদপুরের প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে বলে এই দুই নেতা দাবি করেন।

তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক দাবি করেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। সরকার বিএনপির সঙ্গে যে বৈরী আচরণ করছে তাতে সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর এখন অনেক ক্ষুব্ধ। বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের সভা-সমাবেশসহ কোনো প্রচার-প্রচারণা করতে দিচ্ছে না। একের পর এক মিথ্যে মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ সরকারের এমন কর্মকাণ্ড দেখছে।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির এই নেতার আরো দাবি, নির্বাচন যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় তাহলে চাঁদপুর জেলার সবক’টি আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৪:৩০ ● ২২৯ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)



আরো পড়ুন...