শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ
প্রথম পাতা » খেলাধুলা » শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ


শনিবার ● ২০ জানুয়ারী ২০১৮

---অনলাইন ডেস্ক : এক জয়ে অনেক প্রাপ্তি বাংলাদেশের। ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে কাল শুধু বিধ্বস্তই করেনি, অনেক রেকর্ডও গড়েছে মাশরাফির দল। সেখানে দলগত রেকর্ডও যেমন হয়েছে, ব্যক্তিগত অনেক অর্জনও ছিল। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম ইকবাল ক্রিকেটের তিন সংস্করণে (টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি) ১১ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়েছেন। তিন সংস্করণ মিলে সাকিব পা রেখেছেন ১০ হাজারী ক্লাবে। তরুণ সাব্বির, নাসির হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। এ তো গেল ব্যক্তিগত অর্জনের হিসাব। দলগত অর্জনটাও কিন্তু কম নয়। বাংলাদেশ তাদের ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়টা পেয়েছে কালই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৩ রানের। আগের রেকর্ডটি ছিল ১৬০ রানের। ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খুলনায়। আর এ জয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনালে মাশরাফির দল।

মাঘের মিষ্টি রোদ ওঠা সকালে টস জিতে কাল শুরুতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তামিম, সাকিব, মুশফিকের অর্ধশত রানে ভর করে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩২০ রানের পাহাড়সম স্কোর গড়ে স্বাগতিকরা। লক্ষ্যটা যে পাহাড়সম সেটা তাড়া করতে নামা শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়েই তো প্রতীয়মান! সাকিব, মাশরাফি, রুবেল, মোস্তাফিজদের নিয়ন্ত্রিত এবং দাপুটে বোলিংয়ে অসহায় আত্মসমর্পণ। মাত্র ১৫৭ রানে অলআউট হাথুরুসিংহের দল। তাও ৩২.২ ওভারে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কাল একটি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজায় বাংলাদেশ। স্পিনার সানজামুল ইসলামের পরিবর্তে খেলানো হয় পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে। তবে ম্যাচে সাইফউদ্দিনের খুব একটা প্রয়োজন পড়েনি। ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রানে অপরাজিত আর দুই ওভার বল করে ১৪ রান দেন ফেনীর এ ক্রিকেটার। দলের জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটাররাই ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দেন। ব্যাটিংয়ে নেমে তামিমের ব্যাক টু ব্যাক ৮৪ রান (আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৪ রান করেন), সাকিবের ৬৭ এবং মুশফিকের ৬২ রান দলকে তিনশ’ পেরুনো সংগ্রহ এনে দেয়। এ ছাড়া এনামুল হক বিজয়ের ৩৫, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরের সমান ২৪ রান এবং অধিনায়ক মাশরাফির ব্যাট থেকে আসে ৬ রান। লঙ্কানদের হয়ে থিসারা পেরেরা ৩টি, ফার্নান্দো নেন ২ উইকেট।

৩২১ রানের লক্ষে খেলতে নেমে শুরুতেই নাসিরের স্পিন ভেল্কির ফাঁদে পড়েন লঙ্কান ওপেনার কুশল পেরেরা। মাত্র ১ রান করা পেরেরাকে পরিষ্কার বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান নাসির। এরপর উপুল থারাঙ্গা ও কুশল মেন্ডিস দলের হাল ধরেন। তবে এই জুটিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাশরাফির জোড়া আঘাতে থারাঙ্গা ২৫ ও মেন্ডিস ১৯ রানে আউট হন। শুধু পেরেরা, মেন্ডিস কিংবা থারাঙ্গাকেই নন, লঙ্কান কোনো ব্যাটসম্যানকেই ক্রিজে স্থায়ী হতে দেয়নি টাইগার পেসাররা। বাংলাদেশের ব্যক্তিগত ইনিংস সর্বোচ্চ যেখানে ৮৪ রান (তামিম), সেখানে লঙ্কানদের সর্বোচ্চ ইনিংস ২৯।

অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরার ব্যাট থেকে আসে এই রান। এ ছাড়া নিয়মিত অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের পরিবর্তে এই ম্যাচে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরা দিনেশ চান্ডিমাল ২৮, গুনারত্নে ও ডিকভেলা সমান ১৬ রান করে ও ধনঞ্জয়ার উইলো থেকে আসে ১৪ রান। বাংলাদেশের হয়ে সাকিব ৩টি, মাশরাফি ও রুবেল সমান ২টি করে উইকেট নেন। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচ সেরা হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাক টু ব্যাক ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন সাকিব (জিম্বাবুয়ে ম্যাচেও ছিলেন ম্যাচসেরা)।

এক সময় এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে কঠিন ও দুর্ভেদ্য প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা। ভারত, পাকিস্তান কিংবা হালের আফগানিস্তানের বিপক্ষে যেখানে ওয়ানডেতে বহু আগে এবং একাধিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ সেখানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে বহু বছর অপেক্ষা এবং সাধনা করতে হয়েছে।

১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রথমবার ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়। দীর্ঘ ৩২ বছরে মোট ৪২টি ম্যাচ খেলে দু’দল। যাতে বাংলাদেশের ৬ জয়ের বিপরীতে ৩৪ জয় লঙ্কানদের। দু’দলের বাকি দুটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে দু’দল গত বছরের মার্চে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অংশ নেয়। লঙ্কানদের মাটিতে তিন ম্যাচের ওই সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয়। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়। ৩২ বছরে ৪২ ম্যাচে যেখানে মাত্র ৬ জয়, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে লঙ্কানদের বিপক্ষে কাল দ্বিতীয়বারের মতো জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ে মাশরাফিরা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ঊর্ধ্বগতি, উন্নতির গ্রাফটা সত্যিই ঈর্ষাণীয়, প্রশংসিত তো বটেই।

ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দুই বড় ব্যবধানের জয়ে (জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কা) বোনাস পয়েন্ট পেয়ে ফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ জিতলে যেখানে ৪ পয়েন্ট, সেখানে দুই ম্যাচে বোনাস পয়েন্টসহ বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট, ২ ম্যাচে এক জয়, এক হারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট, ২ ম্যাচে ২ হারে শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট শূন্য। তিন দলেরই এখনো দুটি করে ম্যাচ বাকি। বাংলাদেশ ফাইনালে চলে গেলেও এখনো প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হয়নি। জিম্বাবুয়ে বাকি দুই ম্যাচে হেরে গেলে এবং শ্রীলঙ্কা নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতলে তবেই ফাইনালের টিকিট পাবে। নইলে ফাইনালে বাংলাদেশের সঙ্গী হবে জিম্বাবুয়ে।

সমীকরণের জটিল মারপ্যাচ নিয়ে আপাতত ভাবনা নেই মাশরাফিদের। জয়ের আনন্দে উদ্বেলিত তারা। দলকে ফাইনালে তুলে বাড়ি ফিরতে পেরে খুশি ক্রিকেটপ্রেমী সমর্থকও। হাথুরুসিংহের দলকে হারাতে পেরে সেই খুশি যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস-উল্লাস ছড়িয়েছে মিরপুরের গ্যালারি থেকে অলিগলি রাজপথে তা আর বলতে!

বাংলাদেশ সময়: ১০:২৪:৫৫ ● ১৫০ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)



আরো পড়ুন...