স্নানের পোশাক পরার খবরে ক্ষিপ্ত ট্রাম্প
প্রথম পাতা » আর্ন্তজাতিক » স্নানের পোশাক পরার খবরে ক্ষিপ্ত ট্রাম্প


বুধবার ● ১৭ জানুয়ারী ২০১৮

---অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে মার্কিন সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাইকেল ওলফের লেখা ‘ফায়ার এন্ড ফিউরি: ইনসাইড দি ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’ নামের বইটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। ইত্তেফাকের পাঠকদের জন্য বইটি থেকে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচিত অংশ ভাষান্তর করে প্রকাশ করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের আগের প্রেসিডেন্টরা কম-বেশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রাসাদের মতো হোয়াইট হাউস, চাকর, নিরাপত্তাকর্মী, উপদেষ্টা, সদা প্রস্তুত প্লেন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এসব নতুন কোনো বিষয় নয়। তাই শুরুতেই হোয়াইট হাউসে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন তিনি। ব্যবস্থা করেন নিজের জন্য আলাদা শয়নকক্ষ, নতুন দুই টেলিভিশন সেট, দরজায় নতুন তালার। এমনকি গৃহকর্মীদের মানা করেন জিনিসপত্র ধরতেও। ট্রাম্প সব সময় নিজেকে মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন; কিন্তু গণমাধ্যম বললো, হোয়াইট হাউসে রাতের শেষদিকে স্নানের পোশাক পরে চলাফেরা করেন ট্রাম্প। এমন খবরে চরম ক্ষিপ্ত হন ট্রাম্প। পরের দুই দিন সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তিনি এ ধরনের মানুষই নন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে লেখা ‘ফায়ার এন্ড ফিউরি: ইনসাইড দি ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’ বইতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

‘অ্যাট হোম; অধ্যায়ে লেখক লিখেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কয়েক সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানামুখী তত্ত্বের জন্ম হয়। বন্ধু মহলে একটি ধারণা জন্মেছিল যে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্টসুলভ কাজ করছেন না। সকাল সকাল টুইট করার অভ্যাস বদলাননি, বক্তব্যের সময় ‘স্কিপ্ট’ দেখতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, নিজেই বন্ধুদের ফোন করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মুখ বন্ধ রাখছেন না যেটা তার পূর্বসূরীরা করতেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- প্রেসিডেন্ট হওয়ার ব্যাপারটি তার কাছে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়নি। এছাড়া নিরাপত্তা কর্মীদের নজরে থাকার জন্য ট্রাম্পের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছিল।

আরেকটা ধারণাও অনেকের মধ্যে জন্মালো যে, হঠাত্ করেই ট্রাম্পের মাথায় দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যিনি তার জীবনের একটি বড় সময় কাটিয়েছেন বিশাল ট্রাম্প টাওয়ারে। বাসার কয়েক তলা নিচেই তার অফিস ছিল। সেখানে সবাই তার কথা মেনে চলতো। একজন মানুষ যিনি এমন জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন হঠাত্ করেই হোয়াইট হাউসে গেলে কী অবস্থা হবে তার? ট্রাম্পের এক বন্ধুর মতে, এটা এক ধরনের অপ্রত্যাশিত শাস্তির মতো।

ট্রাম্পের কাছে হোয়াইট হাউসকে মনে হয়েছে, একটি পুরাতন ভবন। হোটেল ব্যবসায়ী হিসেবে ট্রাম্পের প্রশংসা করতেন এমন বন্ধুরা ভাবছিলেন ট্রাম্প কেন হোয়াইট হাউসের সংস্কার করছেন না। হোয়াইট হাউসে ঢুকে ঠিকই পরিবর্তন আনতে শুরু করেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট কেনেডির পর তিনি হোয়াইট হাউসে নিজের আলাদা শয়নকক্ষের ধারা আবারো চালু করেন (যদিও মেলানিয়া ট্রাম্প তখন হোয়াইট হাউসে বেশি সময় কাটাননি)। প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি নতুন করে দুইটি টেলিভিশন আনার আদেশ দিলেন, যদিও আগে থেকেই একটা ছিল। তিনি দরজায় একটি তালা লাগানোর ব্যবস্থা করলেন, যদিও সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা এতে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

বইতে বলা হয়েছে, মেঝেতে পড়ে থাকা একটি জামা তুলে রাখার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প গৃহকর্মীদের বকা-ঝকা করেন। তিনি বলেন, কেন আমার শার্ট ধরতে যাবে? আমার শার্ট যদি মেঝেতে পড়ে থাকে এর অর্থ হচ্ছে আমি চাই এটা ওখানেই পড়ে থাকুক। এরপর প্রেসিডেন্ট আরো নতুন কিছু নিয়ম চালু করলেন। তিনি জানান, কেউ আমার কিছু ধরবে না, বিশেষ করে টুথব্রাশ কেউ ধরবে না (বিষক্রিয়ার খুব ভয় ট্রাম্পের; কিন্তু তিনি ম্যাকডোনাল্ডের খাবার পছন্দ করেন, অথচ কেউ জানে না এটা কোথা থেকে আসছে)। ট্রাম্প আরো বলেন, আমি বললে বিছানার চাদর বদলাতে হবে। আর আমিই বেডশিট তুলবো। যদি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে ডিনার না করেন তবে তিনটি টেলিভিশন ছেড়ে দিয়ে চিজবার্গার খেতে এবং একে-একে বন্ধুদের ফোন দিতে পছন্দ করেন ট্রাম্প। আসলে এই ফোনই ট্রাম্পের সত্যিকারের যোগাযোগ মাধ্যম।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের খবর একের পর এক ফাঁস হতে থাকে। এমন সব খবরে মেজাজ ধরে রাখতে পারছিলেন না ট্রাম্প। ট্রাম্প নিজের মর্যাদাপূর্ণ ভাবমূর্তি ধরে রাখতে সব সময় ফিটফাট থাকেন। স্যুট-টাই পড়া ছাড়া ট্রাম্পকে একবারের জন্য কল্পনাও করা যায় না। তার আশে-পাশের লোকজন স্যুট-টাই পরলে অস্বস্তি বোধ করেন ট্রাম্প। অথচ তিনি নাকি রাতের শেষদিকে স্নানের পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়ান- দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় নিউ ইয়র্ক টাইমসের এমন খবরে চরম ক্ষিপ্ত হন ট্রাম্প। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি কখনোই স্নানের পোশাক পরেননি। তিনি সকলকে প্রশ্ন করতে থাকেন যে, আমাকে দেখে কি সত্যিই মনে হয় আমি বাথরোব গাই বা এ জাতীয় লোক? এই প্রশ্নটি পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের অনেককেই শুনতে হয়েছে।

ট্রাম্পের জন্য অন্য যেকোনো তথ্য ফাঁসের চেয়ে হঠাত্ করে তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের বিষয়টি বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালো। কে এই খবর ফাঁস করলো? নিউ ইয়র্ক টাইমসই জানিয়ে দিল, কাজটি স্টিভ ব্যাননের। যাকে নীরবতার কৃষ্ণগহ্বর মনে করা হতো সেই ব্যানন রাতারাতি সবার কাছে তথ্য ফাঁসকারী ব্যক্তিতে পরিণত হলেন। তথ্য ফাঁসে ট্রাম্পও কিছুটা দায়ী! দিনের ব্যস্ততার ফাঁকে এবং রাতে বিছানায় যাওয়ার পর তিনি এমন অনেকের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন, যাদের গোপনীয়তা রক্ষার কোনো দায় নেই।

একের পর এক খবরে বিরক্ত ট্রাম্প বলেন, গণমাধ্যম শুধু আমাকে আঘাত করছে না, কাজের দক্ষতাও নষ্ট করছে। এর মাধ্যমে জাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর প্রকাশের পর তিনি বলেন, আমি বছরে ৭০ কোটি ডলারের কর্মসংস্থান রক্ষা করেছি যেটি মেক্সিকোতে চলে যাচ্ছিলো। অথচ গণমাধ্যম আমার স্নানের পোশাক পরার খবর প্রকাশ করছে। আমার কোনো স্নানের পোশাক নেই, আর আমি কখনোই তা পরিনি। আমি কখনো এ ধরনের পোশাক পরবো না কারণ আমি সে ধরনের মানুষ নই। গণমাধ্যম একটি মর্যাদাপূর্ণ ভবনের মানহানি করছে, মর্যাদা-সম্মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, রুপার্ট মারডক যিনি আগে কখনো একবারের জন্য আমাকে ফোন করতেন না, এখন সব সময় আমাকে ফোন করছেন। এটা মানুষকে বলা উচিত।

বাংলাদেশ সময়: ১১:৫১:৩৭ ● ২৩৯ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)



আরো পড়ুন...