ইতিহাস ঐতিহ্যের অহংকার লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার জমিদার বাড়ি ও খোয়া সাঘর দিঘি
প্রথম পাতা » ফটো গ্যালারি » ইতিহাস ঐতিহ্যের অহংকার লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার জমিদার বাড়ি ও খোয়া সাঘর দিঘি


শুক্রবার ● ১৭ নভেম্বর ২০১৭

---নিউজ ডেস্ক : ইতিহাস ও ঐতিহ্য একটা জাতি, দেশ এবং অঞ্চলের অহংকার। ইতিহাস থেকেই খুঁজে পাওয়া যায় একটা জাতি, দেশ কিংবা অঞ্চলের প্রকৃত পরিচয়। নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনার সঠিক ও পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনেও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই আপন ঐতিহ্য সংরক্ষণে চাই বাস্তব পদক্ষেপ। লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার দালাল বাজারে অবস্থিত জমিদার বাড়ী (দালা বাড়ী) ও খোয়া সাগর দিঘি। বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় পুরাকীর্তি হিসেবে লক্ষ্মীপুর জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষা করে আসছে। কথিত আছে, ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে “ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী” কর্তৃক স্বীকৃত রাজা গৌর কিশোর রায়ের বংশধর নরেন্দ্র কিশোর রায় গং ১৮৩০-১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে জমিদার বাড়ীর ভিতরের দালান-কোঠাগুলো নির্মাণ করেন। রাজ বাড়ীর নির্মাণ সামগ্রী তৎকালীন সুদূর ইংল্যান্ড থেকে আনায়ন করা হয়েছিল। লোহার পুরাতন ভীম গুলোতে এখনও এমন নিদর্শন রয়েছে। জমিদার বাড়ীর ভবনগুলির ভিন্ন ভিন্ন নাম ছিল। প্রবেশ পথের প্রথমে কাচারী (বর্তমানে দালালবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিস), জমিদারের অতিথিশালা, জলসা ঘর, একটু সামনে গেলেই জমিদার পরিবারের বসবাসের ঘর এবং সর্বশেষ ভিতরের ভবন রাণী মহল ও রাণী পুকুর নামে পরিচিত। উল্লেখ্য, রাজা গৌর কিশোর রায়ের সহধর্মীনি রাণী লক্ষ্মী প্রিয়া রায়ের নামানুসারে লক্ষ্মীপুর জেলার নামকরণ করা হয়। অনেকের মতে, লক্ষ্মী নারায়ণ নামানুসারে এই অঞ্চলের নাম রাখা হয় লক্ষ্মীপুর। জমিদার বাড়ীর সর্বশেষ পূর্ব সীমানায় বিশাল এক দিঘি রয়েছে। যার আয়তন ২২.০১ একর। ---যা প্রকাশ্যে “খোয়া সাগর দিঘি” হিসেবে লক্ষ্মীপুর জেলার ঐতিহাসিক দিঘি হিসেবে পরিচিত। তৎকালীন বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার প্রবাদ বাক্য ছিল, “পাড় বড় ভিপিসিং, পানি সুন্দর কৈলাস, দিঘি বড় খোয়া সাগর”। খোয়া সাগর দিঘির পশ্চিম কোল ঘেষে বর্তমান ঢাকা-রায়পুর মহাসড়কের পার্শ্বে জমিদার বাড়ীর শশ্মান। যা মঠ বাড়ী হিসেবে জমিদার পরিবারের ইতিহাস ও স্মৃতি রক্ষা করে আসছে। ১৯৪৬ সনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জমিদারগণ পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে গেলে তাদেও পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ীটি রয়ে যায়। এটি বর্তমানে সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে। প্রায় ৫ একরের এই জমিদার বাড়ীর সম্মুখের রাজগেট, রাজ প্রাসাদ, জমিদার প্রাসাদ,অন্দর মহল, বাড়ীর প্রাচীর, রাণী পুকুর ঘাট, নাট মন্দির, পূজা মন্ডপ, বিরাটাকারের লোহার সিন্ধুক, প্রাচীন লোহার ভীম প্রভৃতি দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে শত শত দর্শনার্থী। বিচার আসন ও নৃত্য আসন কে বা কারা সম্প্রতি নিয়ে গেছে। সংস্করণের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী এই জমিদার বাড়ী ও খোয়া সাগর দিঘি হতে পারে জেলার ইতিহাস সংরক্ষিত একমাত্র পর্যটন কেন্দ্র। তাই আপন ঐতিহ্য রক্ষার্থে সুপরিকল্পিতভাবে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করে দালাল বাজার জমিদার বাড়ী ও খোয়া সাগর দিঘি সংস্করণের মাধ্যমে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবী জেলা বাসীর।

বাংলাদেশ সময়: ০:১০:৩৪ ● ১১৫২ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)



আরো পড়ুন...